দাবা খেলার নিয়ম । Daba khela niyam। দাবা খেলার কৌশল । -Chess Bangla
আজকে আপনাদের সাথে দাবা খেলার খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করবো, তা হলো দাবা খেলার নিয়ম ও দাবা খেলার কৌশল।
দাবার বোর্ডঃ
দাবা বোর্ডে মোট ৬৪টি কক্ষ রয়েছে। ৬টি সারি এবং ৮টি কলাম একসাথে ৮*৮ = ৬৪টি ঘর। প্রতিটি ঘর
সাদা-কালো দিয়ে রঙিন। অর্থাৎ, ৩২টি সাদা ঘর এবং ৩২টি কালো ঘর রয়েছে।
বোর্ড স্থাপনের নিয়ম:
ভুল পদ্ধতি
দাবার গুটির ইংরেজি নাম
দাবা গুটির ইংরেজি নাম আন্তর্জাতিক দাবা সংস্থার (FIDE) দ্বারা নির্ধারিত। দাবা খেলায় ১৮ টি উভয় প্রতিপক্ষের ৩২ টি গুটি আছে। এখানে ৬ টি মূল নাম রয়েছে।
বাংলায় নাম হলোঃ
রাজা,রাণি,হাতি,ঘোড়া,নৌকা,সৈনিক
এখানে রাজা একটি, রাণি একটি, হাতি দুইটি, ঘোড়া দুইটি, নৌকা দুইটি এবং সৈনিক আটটি।
দাবার গুটির ইংরেজি নাম হলো-
রাজা (King)
রাণী (Queen)
হাতি (Bishop)
ঘোড়া (Knight)
নৌকা (Rook)
সৈনিক (Pawn)
উল্লেখ্য যে ইংরেজি অক্ষরে লেখা নামগুলি FIDE দ্বারা নির্ধারিত ঘুটিগুলির নাম, যা আন্তর্জাতিক দাবাতে
ব্যবহৃত হয়।
আর পড়ুন- দাবা খেলার উপকারিতা
গুটি বসানোর নিয়ম-
- বোর্ডের একপাশে সাদা গুটি থাকবে এবং অন্য পাশে কালো গুটি থাকবে।
- উভয়ের গুটি ক্ষেত্রে প্রথম সারিতে দুই কোণায় একটি করে দুইটি নৌকা অর্থাৎ (Rook) স্থাপন করতে হবে।
- এরপর উভয় নৌকার পাশে অর্থাৎ একটি করে ঘোড়া (Knight) দুই নৌকার পাশে দুইটি ঘোড়া স্থাপন হবে।
- এরপর উভয় ঘোড়ার পাশে একটি করে হাতি (Bishop) বসাতে হবে।
- এরপর মন্ত্রী বা রাণি (Queen) বসাতে হবে একটি নিয়ম অনুসারে, সবসময় মনে রাখতে হবে যে কালো মন্ত্রী কালো ঘরে এবং সাদা মন্ত্রী সাদা ঘরে স্থাপন করতে হবে।
- এরপর প্রথম সারিতে একটি ঘর অবশিষ্ট থাকবে। যেখানে রাজা (King) বসাতে হবে।
- এরপর উভয়ের গুটি ক্ষেত্রে দ্বিতীয় সারিতে প্রতি ঘরে একটি করে বড়ে বা সৈনিক বসাতে হবে।
- উপরে আপনাদের সুবিধার জন্য গুটি বসানোর সঠিক এক ছবি দেওয়া হয়েছে।
দাবা খেলার গুটি চালার নিয়ম-
রাজা ( King)
রাজা তার ডাইনে বামে সামনে পিছনে যে কোন দিকে একবারে মাত্র এক ঘর চলতে পারে। এভাবে চলে যে কোন দিকে একটি বিপক্ষ গুটির দখল করতে পারবে ১নং ছবিতে দেখানো হলো। রাজার ক্ষমতা খেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি হলেও তার চলন সবচেয়ে কম।
রাজা যে কোন দিকে একবারের জন্য একটি ঘর সত্যে পারে।
নৌকা ( RooK)
দাবার বোর্ডে দুই প্রতিপক্ষ দুইটি করে নৌকা থাকবে। নৌকা সোজা সরল পথে, সামনে-পেছনে অথবা ডানে-বামে যেকোনো সংখ্যক একবারে চলতে পারে। অর্থাৎ নৌকা উপরে নিচে ডানে বামে যেকোনো একদিকে সোজাসুজি চলতে পারে। অবশ্যই চলার পথে অন্য কোন গুটি ডিঙিয়ে যেতে পারবেনা । চলার পথে বিপক্ষ কোন গুটি থাকলে তাকে ওই ঘরের দখল করতে পারবে। এখানে নৌকার চলার পথ.২ নং ছবিতে দেখানো হলো।
২নং ছবি
গজ বা হাতি (Bishop)
বোর্ডের ওপর গজ বা হাতি চলে কোনাকোনিভাবে একবারে যে কোন সংখ্যক ঘর চলতে পারে। অবশ্যই চলার পথে কোন গুটি ডিঙিয়ে যেতে পারে না। বলাবাহুল্য চলার পথে কোন বিপক্ষ গুটি থাকলে তা খেয়ে হাতি ঐ ঘর দখল করতে পারবে। দাবা খেলার দুই প্রতিপক্ষে দুইটি করে হাতি বা (Bishop) থাকে দুজনেরই। এখানে একটি হলো সাদা হাতি বা (White Bishop) ও অন্যটি হলো কালো হাতি (Black Bishop)। এখানে নিয়ম হলো সবসময় সাদা হাতি সাদা ঘরে অর্থাৎ সাদা করে কোনাকোনিভাবে চলতে পারবে এবং কালো হাতি সবসময় কালো ঘরে অর্থাৎ কোনাকুনি কালো ঘরে চলতে পারবে। যেমনটা ৩ নং ছবিতে দেখানো হলো।
৩নং ছবি
মন্ত্রী (Queen)
দাবা খেলার মধ্যে বোর্ডের উপর মন্ত্রীর সবচেয়ে বেশি শক্তিশালী “পিস্” বলা হয়। বোর্ডের মধ্যে মন্ত্রীর ক্ষমতা একটি নৌকা এবং একটি হাতির মিলিত শক্তির সমান। অর্থাৎ মন্ত্রী একবারে নৌকার মতো ডাইনে বামে,উপর-নিচ এবং গজের কোনাকুনি যেকোনো সংখ্যক ঘর অতিক্রম করতে পারে। অবশ্য চলার পথে যদি কোনো বাধা না থাকে। চলার পথে বিপক্ষ কোন গুটি থাকলে মন্ত্রী ঐ ঘর দখল করতে পারবে।অতএব দেখা যাচ্ছে মন্ত্রী একসাথে ২৭টি ঘরের উপর নিজের ক্ষমতা দখল করতে পারে যেমনটা ৪ নং ছবিতে দেখানো হলো।
ঘোড়া( Knight)
দাবা খেলার মধ্যে সবচেয়ে অদ্ভুত চাল হলো ঘোড়ার। ঘোড়া বোর্ডের উপর ডাইনে বামে সামনে পিছনে একবারে আড়াইঘর লাফাতে পারে। শত্রু মিত্র যেকোনো বাধার উপর দিয়ে ডিঙিয়ে যেতে পারে ঘোড়া। যা দাবা বোর্ড এর মধ্যে অন্য কোন গুটি পারেনা। ৫ নং ছবিতে ভালো করে লক্ষ্য করুন। তাহলে বুঝতে পারবে ঘোড়া কিভাবে তার চারপাশের আটটি ঘরে যেকোন একটিতে যদি ঘর খালি থাকে তাহলে ঘোড়া লাফিয়ে সেই ঘরে পৌঁছাতে পারে এবং ঐ ঘরে যদি বিপক্ষ গুটি থাকে তাহলে তা ঘোড়া সেই গুটি টিকে খেয়ে ঘরটি দখল করতে পারে।
সৈন্য (Pawn)
বোর্ডের ওপর সৈন্য হলো রাজার সৈনিক । সৈনিক শুধু সামনের দিকে একবারে একঘর এগিয়ে যেতে পারে। অবশ্য প্রাথমিক অবস্থা থেকে সৈনিক একবার শুধু ইচ্ছা করলে একবারে দুই ঘর এগিয়ে যেতে পারে। অবশ্য সামনে যদি কোন বাধা না থাকে। মজার কথা হল সৈনিক সামনে এগিয়ে গেলে বিপক্ষ গুটি দখল করা বেলায় সৈনিক কিন্তু একবারে সামনে কোনাকুনি অবস্থানরত একটি বিপক্ষ গুটিই খেতে পারবে। অর্থাৎ সৈনিক তার সামনে কোনাকুনি এক ঘরে যদি বিপক্ষে কোন সৈনিক বা অন্য কোন গুটি থাকে তাহলে শুনি কোনাকুনি এক ঘর খেয়ে সেই ঘর দখল করতে পারবে। যেমনটা ৬নং ছবিতে দেখানো হয়েছে। এছাড়া অন্যান্য গুটির মত কোনভাবেই সৈনিক পিছু হটতে পারবেনা শুধু সামনের দিকে এগিয়ে যেতে পারবে।
রাজা এবং নৌকার বিশেষ চাল ( ক্যাসলিং এর নিয়ম )
দাবায় খেলার নৌকার ও রাজার একটি বিশেষ চাল বা (Move) আছে। যাকে ক্যাসলিং বলে। বাংলায় দুর্গ গড়া
বলা হয়। রাজা দুইপাশের নৌকার সাথেই ক্যাসলিং করতে পারে। এই চালে রাজা নৌকার দিকে দুই ঘর অতিক্রম
করবে এবং নৌকা রাজাকে ডিঙ্গিয়ে বা টপকে তার বিপরীত পাশের ঘরে বসবে। অর্থাৎ রাজার বর্তমান ঘর ও
ক্যাসলিং পরবর্তী ঘরের মধ্যবর্তী ঘরে নৌকা বসবে।
তবে এই বিশেষ চালের কিছু শর্ত রয়েছে। এই শর্তগুলো পূরণ হলেই কেবল রাজা ও নৌকায় মধ্যে ক্যাসলিং
এই চাল দেওয়া যাবে। শর্তগুলো হচ্ছেঃ
- এটি রাজা এবং নৌকা উভয়ের প্রথম চাল হতে হবে।
- নৌকা এবং রাজার মধ্যবর্তী ঘরগুলো অবশ্যই ফাঁকা থাকতে হবে। অর্থাৎ এই ঘরগুলোতে নিজের গুটি কিংবা প্রতিপক্ষের কোন গুটি থাকা যাবে না।
- রাজা যখন প্রতিপক্ষের কোন গুটি দ্বারা আক্রান্ত অবস্থায় থাকবে অর্থাৎ চেক থাকা অবস্থায় রাজা ও নৌকায় মধ্যে ক্যাসলিং করা যাবে না।
- যে দুটি ঘর রাজা অতিক্রম করে ক্যাসলিং করবে সেই ঘরগুলোতে আগের থেকেই প্রতিপক্ষের কোন গুটি দ্বারা আক্রান্ত থাকা যাবে না।
উপরে এই বিষয়গুলো ক্যাসলিং করার সময় অবশ্যই আপনাকে মনে রাখতে হবে। এছাড়া উপরে রাজা ও নৌকায় মধ্যে কিভাবে ক্যাসলিং করতে হবে তার ছবি দেওয়া হয়েছে।
দাবা খেলায় গুটি কাঁটার নিয়ম- Capture the Pieces
দাবা খেলায় যেকোন গুটি এমন কোন ঘরে যেতে পারবে না যেখানে নিজের রঙের গুটি থাকবে। তবে যেই ঘরেযাবে সেই ঘরে যদি প্রতিপক্ষের গুটি থাকে তাহলে তাকে সরিয়ে নিজে ঐ ঘর স্থাপন করতে পারবে।এক্ষেত্রে প্রতিপক্ষের গুটিটি বোর্ডের বাহিরে চলে যাবে এবং গুটিটি কাটা (Capture Pieces) হয়েছে বলা হবে। এখানে Piese বলা হয়েছে দাবা খেলার গুটিকে।
তবে এক্ষেত্রে বড়ে বা সৈনিক দিয়ে প্রতিপক্ষের গুটি কাটার নিয়মটা একটু ভিন্ন ধরনের। বড়ে বা সৈনিক তার
সোজাসোজি সামনে থাকা প্রতিপক্ষের গুটিকে কাটতে পারে না। বড়ের বা সৈনিক সামনের ঘরে অন্য কোন
গুটি থাকলে বড়ে বা সৈনিক আর সামনে এরিয়ে যেতে পারে না। গুটি কাটার সময় বড়ে সৈনিক কোণাকুণি
একঘর চলাচল করে প্রতিপক্ষের গুটি থাকে কাটতে পারে। অর্থাৎ বড়ের বা সৈনিকের এক ঘর সামনে কোণাকুণি
কোন প্রতিপক্ষের কোন গুটি থাকে তাহলে তাকে কাটতে পারে।
আপনাদের সুবিধা জন্য উপরে দাবা খেলার গুটি কাটার ছবি উদাহরণ হিসেবে দেওয়া হয়েছে।
বড়ের বা সৈনিকের বিশেষ চাল- এন প্যাসান্ট (EN PASSANT)
দাবা খেলার বড়ের বা সৈনিকের বিশেষ কিছু চাল রয়েছে। এটাকে বলে এন প্যাসান্ট (EN PASSANT)।
বড়ে বা সৈনিক দিয়ে বড়ে কাটার একটি বিশেষ নিয়ম রয়েছে। সেটি হচ্ছে এন প্যাসান্ট (EN PASSANT) বা পাশ কাটিয়ে বড়ে বা সৈনিক কাটা। এটি আন্তর্জাতিক দাবায় ব্যবহৃত হয়। যে কোন বড়ে বা সৈনিকের পঞ্চম সারিতে থাকা অবস্থায় প্রতিপক্ষের দ্বিতীয় সারিতে কোণাকুণি অবস্থানে থাকা কোনগুটি যদি তাকে পাশ কাটিয়ে দুই ঘর অতিক্রম করে তাহলে প্রথম গুটিটি পরবর্তী চালে দ্বিতীয় ঘুটিটিকে একঘর পেছনে নিয়ে গিয়ে কাটতে পারবে। এই নিয়মটিই এন প্যাসান্ট যা ইংরেজিতে (EN PASSANT) নামে পরিচিত। তবে প্রতিপক্ষের বড়েটি পরবর্তী চালেই কাটতে হবে। এক চাল পার হলে এইভাবে আর কাটা যাবে না বা কাটতে পারবে না। উল্লেখ্য এই নিয়ম , ভারতীয় দাবায় এই নিয়মের প্রচলন ছিল না।
বড়ের বা সৈনিকের পদোন্নতিঃ
বড়ে বা সৈনিক একমাত্র গুটি যা পেছনের দিকে যেতে পারে না। বড়ে বা সৈনিক সামনের দিকে যেতে যেতে যদি শেষ সারিতে গিয়ে উপস্থিত হয় তখন বড়ের বা সৈনিকের পদোন্নতি দেওয়া হয়। বড়ে বা সৈনিক শেষ সারিতে যাওয়ার পর সাথে সাথেই রাজা ছাড়া অন্য যে কোন গুটি দ্বারা পরিবর্তন করা যাবে। অর্থাৎ আটটি বড়ে শেষ সারিতে গিয়ে পৌছলে আটটি মন্ত্রীই উঠানো যাবে। এক্ষেত্রে ভারতীয় দাবায় অঞ্চলভেদে কিছু নিয়মের প্রচলন ছিল বা এখনো কিছু প্রচলন আছে যে, যেমনঃ বড়ে বা সৈনিক শেষ ঘরে গেলে মন্ত্রী হবে কিংবা মন্ত্রী বোর্ডে থাকলে অন্য গুটি উঠাতে হবে, শেষ ঘরে গিয়ে এক চাল বসতে হবে ইত্যাদি । তবে দাবার আন্তর্জাতিক নিয়মে এই ধরণের কিছু নেই। আপনি বড়ের বা সৈনিক বদলে আপনার ইচ্ছামতো রাজা ছাড়া যে কোন গুটি নিতে পারবেন। এক্ষেত্রে লক্ষণীয় যে, বড়ে বা সৈনিক শেষ ঘরে পৌছার পর, তার পরিবর্তে অন্য গুটি বসানোর পর আপনার চালটি সমাপ্ত হবে। অর্থাৎ সেই গুটি আর চাল দিতে পারবে না।
উপরে বড়ের বা সৈনিকের পদোন্নতি একটি উদাহরণ ছবি দেওয়া হয়েছে।
দাবা খেলা শুরু করার নিয়ম- Starting a game of Chess
দাবা খেলার শুরুতে কোন খেলোয়াড় সাদা গুটি নিবে বা কোন খেলোয়াড় কালো গুটি নিবে তা টস করে নির্ধারণ করে নিতে হয়। তবে যাই হোক, সাদা পক্ষ সবসময় আগে চাল দিবে এবং কালো পক্ষ পরে চাল দিবে। প্রথম চালে যে কোন চাল দেওয়া যাবে। যেমন বড়ে বা সৈনিক এক ঘর বা দুই ঘর চালা যাবে। অথবা ঘোড়া চালা যাবে। তবে প্রতিবার একটি করে যেকোনো একটি গুটিই চাল দেওয়া যাবে। উল্ল্যেখ্য যে, ভারতীয় দাবায় প্রথম চালেই দুইটি বড়ে বা সৈনিক এক ঘর করে চালার প্রচলন ছিল। আন্তর্জাতিক দাবায় এ ধরণের কোন নিয়ম নেই। অর্থাৎ প্রতি চালে কেবল একটি গুটিই চালা যাবে।
দাবা খেলার ফলাফল নির্ধারণের নিয়মঃ
দাবা খেলায় শেষের দিকে দুই ধরণের ফলাফল আসতে পারে। প্রথমত একপক্ষের জয় ও অন্যপক্ষের পরাজয় এবং দ্বিতীয়টি হলো ড্রো। উভয় ক্ষেত্রে কিছু নিয়ম কানুন রয়েছে। আজকে শুধু জয় ও পরাজয় নিয়ে আলোচনা করবো।
১. জয় ও পরাজয় নির্ধারণের নিয়মঃ
দাবা খেলার মূল উদ্দেশ্যই হলো রাজাকে বা (King) কে বন্দী করা বা কিস্তি মাত করা বা (Check Mate) করা। রাজাকে যখন আর রক্ষা করা যায় না তখন রাজা কিস্তি মাত বা (Check Mate) হয়ে যায়। রাজার উপর চেক পড়লে বা প্রতিপক্ষের গুটি দ্বারা রাজাকে আক্রান্ত করলে তিনিটি উপায়ে রাজা নিজেকে রক্ষা করতে পারে।
- প্রথমত প্রতিপক্ষের আক্রমণকারী গুটিকে নিজের কোন গুটি দ্বারা কেটে ঐ ঘর দখল করে।
- দ্বিতীয়ত মধ্যবর্তী স্থানে নিজের কোন গুটি বসিয়ে প্রতিপক্ষের বাধার সৃষ্টি করে
- তৃতীয়ত আক্রান্ত ঘর থেকে নিজেকে সরিয়ে
এই তিনিটি উপায়ের যে কোন একটি ব্যবহার করেও যদি রাজা নিজেকে রক্ষা করতে না পারে তাহলে তাকে কিস্তিমাত বা চেক মেইট বলা হয়। এই অবস্থায় প্রতিপক্ষকে বিজয়ী বলা হবে। এখানে লক্ষণীয় যে, কিস্তি মাতের দুইটি শর্ত। প্রথমত রাজার উপর চেক থাকতে হবে এবং দ্বিতীয়ত চেক থেকে বাঁচার কোন উপায় না থাকলে। এইক্ষেত্রে প্রতিপক্ষ বিজয় বলা হবে।
শেষ কথাঃ
আমাদের এই লেখাটির উদ্দেশ্য ছিল দাবা খেলার নিয়ম ও দাবা খেলার কৌশল পাঠকদের সাথে শেয়ার করা এবং আন্তর্জাতিক দাবার নিয়মের সাথে পরিচয় করানো। কারো কোন পরামর্শ বা প্রশ্ন জিজ্ঞাসা থাকলে কমেন্ট বক্সে জানাবেন। আমি যথাসাধ্য উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব। লেখাটি শেষ পর্যন্ত পড়ার জন্যে আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।
চাইলে নিচের ভিডিওটা দেখতে পারেন