দাবা খেলা কী হারাম নাকি হালাল । Daba khela ki haram । দাবা খেলা কি হারাম । দাবা খেলা কি ইসলামে হারাম

দাবা খেলা কী হারাম নাকি হালালDaba khela ki haramদাবা খেলা কি হারাম । দাবা খেলা কি ইসলামে হারাম


দাবা খুবই পরিচিত একটি খেলা। এই দাবা খেলা কি হারাম নাকি হালাল এই নিয়ে আলেমগণের বিভিন্ন মত পোষণ করেছেন। যারা এটিকে হারাম বলেছেন, তারা  দলীল হিসেবে নবী করীম ( সঃ )- এর হাদীস পেশ করেছেন। কিন্তু হাদীস বিশ্লেষণগণরা তাদের এই সব দলীলগুলো প্রত্যাখ্যান করেছেন। এর কারণ হিসেবে তারা বলেছেন যে, নবী করীম ( সঃ ) ও সাহাবায়ে কেরামদের পূর্বে দাবা খেলা আবিষ্কার হয় নিই বরং তাদের প্রায় ১০০ বছর থেকে ১৫০ বছর পর দাবা আবিষ্কৃত হয়। আজকে আমরা দাবা খেলা কি হারাম কিংবা দাবা খেলা কি ইসলামে হারাম অথবা দাবা খেলা কি হালাল এই নিয়ে আলোচনা করবো। 




দাবা খেলা কী হারাম নাকি হালাল । Daba khela ki haram । দাবা খেলা কি হারাম । দাবা খেলা কি ইসলামে হারাম


দাবা ইসলামে জায়েজ।কারণ? দাবার আবিষ্কার কারা করেছে এবং কখন করেছে এটা নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন মতামত আছে।দাবা খেলা একক স্থানে বা একক ব্যক্তির দ্বারা আবিষ্কার হয়নি বরং পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে এবং বিভিন্ন দেশে এই খেলাটির উন্নয়ন ঘটেছে ।এই খেলার আবিষ্কারক হিসেবে চীন,ভারত এবং অনেক দেশই আছে।


তবে দাবা খেলা আবিষ্কার এবং জন্মস্থান ভারত উপমহাদেশ। ৮ম শতাব্দীতে ভারত উপমহাদেশ দাবা খেলার জন্ম হয়।






এখানে মজার বিষয় হলো দাবার বিকাশ হয় দশম শতাব্দীতে আরব ও পারস্যের মুসলমানদের দ্বারা। এখানে ষষ্ঠ শতাব্দীতে  মহানবী (সঃ) ছিলেন  কিন্তু তখন দাবা বিকশিত অবস্থাতেই ও ছিলো না।কারণ দাবার আবিষ্কার হয় অষ্টম শতাব্দীতে এবং আর বিকাশ হয় দশম শতাব্দীতে। সুতরাং এখানে যখন দাবার জন্ম ও বিকাশ হয়, তখন মহানবী (সঃ) থেকে শুরু করে ইমাম আবু হানিফা (রা) কেউই এই পৃথিবীতে ছিলেন না। 

দাবার আবিষ্কার হয় মহানবী  (সঃ) এর মৃত্যুর প্রায়  ১৫০ বছর পরে এবং ইমাম আবু হানিফার মৃত্যুর প্রায় ১০০ বছরের বেশি সময় পর দাবা আবিষ্কার হয়। 

তাহলে এখানে হাদিসে কোন খেলার কথা বলা হয়েছে ?









"এখানে নারদেশীর" অর্থ হচ্ছে পাশা।

 আর এখানে দাবার আরবি হচ্ছে "শতরঞ্জ"।


এখানে শতরঞ্জ নিয়ে কোনো কথাই ইসলামের শরিয়াতে ও হাদীসে নেই। "নারদে শীর" হচ্ছে একধরনের জুয়া খেলা যা আরবে প্রাচীন কালে খেলা হতো। যাকে বর্তমান পাশার খেলার সাথে তুলনা করা যায়। পাশা ইংরেজি  "Dice"। এর নিকটবর্তী ও মিলের খেলা হচ্ছে  লুডু। তবে দাবার সাথে এর তুলনা বোকামি ছাড়া কিছু না। দাবা খেলা একটি বুদ্ধিনির্ভর খেলা আর অন্যদিকে লুডু,নারদে শীর,পাশা,Dice, ইত্যাদি এই খেলা গুলো হলো জুয়া হয় এবং এইসব খেলার ভাগ্য উপর নির্ভর করে।অন্যদিকে দাবার দ্বারা যে বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশ হয় এবং যেকোনো ব্যক্তির বুদ্ধির চর্চা হয়। আমরা জানি, পরিশ্রম দুই ধরনের। একটি হচ্ছে শারীরিক আরেকটি হচ্ছে জ্ঞান বিক্তিক বা বুদ্ধি নির্ভর। 


এখানে আমরা জানি সব কিছু বৈধ যতক্ষণ না হারাম হওয়ার কোনো দলীল না পাওয়া যায়। তাছাড়া দাবা খেল-তামাশার উপরে। এই খেলার মধ্যে মেধার চর্চা ও চিন্তা-চেতনার বিকাশের মাধ্যম রয়েছে। এই কারণে এটি ছক্কা খেলা থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। 

তবে এখানে মনে রাখতে হবে যে, দাবা খেলার বৈধ থাকবে যদি কিছু শর্ত মানা হয়। শর্ত গুলো হচ্ছে যে,

১. এর কারণে যেন, নামাজ আদায়ে যে কোনো বিলম্ব না হয় বা কোনো ভাবেই বিলম্ব করা যাবে না। 

২. খেলার মধ্যে কোনো প্রকার জুয়া মিশ্রিত করা যাবে না।
 
৩. খেলোয়াড় খেলা অবস্থায় তা ভাষাকে সংযত রাখতে হবে। কোনো ভাবেই অশ্লীল কথা , গালাগালী করা যাবে না।

এই তিনটি শর্ত যেকোনো খেলার হালার হতে লাগে। 

পরিশেষে আমরা বলতে পারি যে, দাবা খেলার ইসলামে জায়েজ এবং দাবা খেলা হারাম নয়।  এটি হালার। 


শেষ কিছু কথা

দাবা খেলার ইসলামে জায়েজ এবং দাবা খেলা হারাম নয়।  এটি হালার। । তাছাড়া দাবা খেলার আরো অনেক উপকার রয়েছে। আমাদের উদ্দ্যেশ ছিল পাঠকদের সাথে শেয়ার করা। কারো কোন পরামর্শ বা প্রশ্ন জিজ্ঞাসা থাকলে কমেন্ট বক্সে জানাবেন। আমি যথাসাধ্য উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব। লেখাটি শেষ পর্যন্ত পড়ার জন্যে আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।


আর পড়ুন-  Chess Bangla

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন

যোগাযোগ ফর্ম